৫ জুলাই, ২০২৬

একটা বড় প্রশ্ন

একটা বড় প্রশ্ন

হিউস্টন থেকে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম। রাউন্ড অফ ৩২ এর রাতেগুলোর ঘোর যেনো কাটেই না। স্কোরলাইনগুলো ছিল কেবল গল্পের শিরোনাম, আসল গল্প লেখা হয়েছে মাঠে।  হিউস্টনের গরম সন্ধ্যা থেকে মায়ামির সমুদ্রতীরের আলো, এক স্টেডিয়াম থেকে আরেক স্টেডিয়ামে ছুটে বেড়িয়েছে বিশ্বকাপের গল্প। কোথাও উল্লাস, কোথাও নীরবতা। কোথাও স্বপ্ন বেঁচে আছে, কোথাও চার বছরের অপেক্ষা শেষ হয়েছে রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে।

এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো রাউন্ড অব ৩২ এর পর থেকে ম্যাচ আর শুধু দলীয় লড়াই নয়, এটি হয়ে উঠেছে ট্যাকটিকস, শৃঙ্খলা আর ব্যক্তিগত প্রতিভার নিখুঁত ভারসাম্যের পরীক্ষা। আর সেই ভারসাম্য এখন রাউন্ড অব ১৬ তে এসে পৌঁছেছে আরও কঠিন পর্যায়ে।বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে এখন আর “ফ্রি ফুটবল” খেলার সুযোগ নেই।  ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, স্পেন কিংবা পর্তুগাল সবাই এখন খেলছে অনেক বেশি হিসাবি ফুটবল। উচ্চ লাইন ধরে আক্রমণ করলেও প্রতিটি দলের সবচেয়ে বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রানজিশন ডিফেন্স। কারণ একবার বল হারালেই বিপরীত দিক থেকে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। 

একে একে রাউন্ড অব ১৬ এর ম্যাচগুলোতে চোখ রাখবো। যেখানে প্রতিটি লড়াইয়ের ভেতরে লুকিয়ে আছে আলাদা শক্তি, আলাদা দুর্বলতা আর কিছু গল্প। প্রথম পর্বে দেখা যাক ম্যাচে ডে ওয়ানের ম্যাচ গুলোর দিকে। 

[ জুলাই ৬]

ব্রাজিল বনাম নুরওয়ে।
ব্রাজিল বনাম নুরওয়ে।

১।  🇧🇷 ব্রাজিল বনাম 🇸🇯 নরওয়ে , জুলাই ৬ ( রাত ২টা ) 

ট্যাকটিকাল বেটাল: নরওয়ের ডিফেন্স কি ব্রাজিলের গতি সামলাতে পারবে?

🇧🇷 ব্রাজিলঃ 

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: এদের আসল প্ল্যানটা কী?

জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয় হাফে লিড নিতে ইনজুরি টাইম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও, প্রথমার্ধের পর ব্রাজিল কিন্তু পুরোপুরি ডমিনেটিং ছিল। তারা ১১টি শট নেয় যেখানে জাপান নিতে পেরেছিল মাত্র একটি, ৮০% পজেশন ধরে রাখে শেষ থার্ডে।  এবং দিনশেষে এই জয়টা তাদের প্রাপ্যই ছিল।

কিন্তু... ম্যাচের একটা প্রথমার্ধও তো ছিল। প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের গোল করার সুযোগ বা সম্ভাবনা ছিল প্রায় সমান-সমান, এবং জাপান ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে গিয়েছিল। তাহলে দ্বিতীয় হাফে হুট করে কী বদলে গেল? ব্রাজিলিয়ানরা কি অবশেষে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের তৈরি করে দেওয়া ওই 'সিস্টেম-নির্ভর' বিরক্তিকর ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খল ভেঙে নিজেদের চেনা ছন্দের সেই ‘ফ্রি-স্টাইল’ সাম্বা ফুটবলে ফিরে এসেছিল?

তারা আসলে স্রেফ একের পর এক ক্রস বক্সে অনবরত বল ফেলতেই থাকল, যতক্ষণ না জাপানের রক্ষণভাগ ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। কার্লো আনচেলত্তির দল জাপানের বিপক্ষে রেকর্ড ৪০টি ক্রস করেছে, যা ১৯৬০ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ! আর এই ক্রসগুলোর ৭০%- ই এসেছে ম্যাচের দ্বিতীয় হাফে।

<br>

এখন পর্যন্ত দুটি ভালো ও সুসংগঠিত দলের বিরুদ্ধে  জাপান এবং ওপেনিং ম্যাচে মরক্কো, ব্রাজিলের প্রথমার্ধের খেলা ছিল মারাত্মক হতাশাজনক। পরে আনচেলত্তির কিছু সাবস্টিটিউট এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জাদুতে দল ম্যাচ থেকে কিছু একটা বের করতে পেরেছে। জাপানের সেরা তিনজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে থাকায় ম্যাচের দ্বিতীয় হাফে এসে তারা একদম ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল এবং সেই সুযোগটাই ব্রাজিল নিয়েছে।

কিন্তু শেষ ১৬-র লড়াইয়ে ব্রাজিলিয়ানরা যখন এমন এক সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের মুখোমুখি হবে যাদের আক্রমণেও সুপারস্টার আছে তখন কী হবে?

🇸🇯 নরওয়েঃ 

সবচেয়ে বড় প্রশ্নঃ রক্ষণভাগ কি প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে?

অধিকাংশ ম্যানেজারের অধীনে নরওয়ে দলকে কেমন দেখাত, তা কল্পনা করা বেশ সহজ। ব্যাপারটিকে যদি একটু সহজ করে বলি: তাদের দলে আছে একজন দানবীয় ও অপ্রতিরোধ্য সেন্টার ফরোয়ার্ড (হাল্যান্ড) যে ফাঁকা জায়গা পেলেই প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে ওস্তাদ, একজন চতুর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার (ওডেগার্ড) যে সেই ফাঁকা জায়গায় নিখুঁত পাস বাড়াতে পারদর্শী, আর বাকিরা ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলা লম্বা চওড়া সব ‘রোল প্লেয়ার’।

তাহলে সাধারণ নিয়মে তাদের ট্যাকটিকস হওয়া উচিত ছিল—নিচে নেমে শক্ত ডিফেন্স করা আর কাউন্টার অ্যাটাকে খেলা, তাই তো? কিন্তু বাস্তবে তা একদমই নয়। ৪ ম্যাচে তারা প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ১.০৫ মিটার গতিতে বল সামনের দিকে এগিয়ে নিয়েছে—যা চলতি টুর্নামেন্টে সব দলের মধ্যে ৩৯তম ধীরগতির। আসলে তারা খেলছে এক অদ্ভুত ‘হাইব্রিড’ স্টাইলে: তারা যেমন ওপরে উঠে হাই-প্রেস করে না, তেমনি আবার খুব বেশি নিচে নেমেও ডিফেন্স করে না। তারা বল কেড়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ছোটে না ঠিকই, কিন্তু একবার বল পায়ে পেলে সেটির নিয়ন্ত্রণ সহজে হাতছাড়া করে না।

'Futi'-র ফিল্ড কন্ট্রোল ম্যাপে সেটি স্পষ্ট; যে অংশগুলোতে প্রতিপক্ষের চেয়ে নরওয়ের বল পজেশন বেশি ছিল, সেগুলো সবুজ রঙে দেখানো হয়েছে। <br>
'Futi'-র ফিল্ড কন্ট্রোল ম্যাপে সেটি স্পষ্ট; যে অংশগুলোতে প্রতিপক্ষের চেয়ে নরওয়ের বল পজেশন বেশি ছিল, সেগুলো সবুজ রঙে দেখানো হয়েছে। 

এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, তাহলে তারা কেন আরও একটু নিচে নেমে ডিফেন্স করছে না যাতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনের পেছনে আর্লিং হাল্যান্ডের দৌড়ানোর জন্য আরও বেশি ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়? আসল সত্যিটা হলো—এই দলের ডিফেন্স করার ক্ষমতাই নেই! নিজেদের ম্যাচগুলোতে গড়ে ৫০% বল পজেশন ধরে রাখা সত্ত্বেও, তারা যেখানে প্রতিপক্ষের পোস্টে ৪৪টি শট নিয়েছে, সেখানে নিজেরা হজম করেছে ৫৯টি শট! ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যখন তারা রিজার্ভ বেঞ্চের দল নামিয়েছিল, সেই ম্যাচটি বাদ দিলেও শটের পরিসংখ্যানে তারা মাইনাস ১০ (-১০)-এ পিছিয়ে থাকবে। ৪ ম্যাচে তারা ইতিমধ্যেই ৮টি গোল খেয়েছে এবং তাদের ১.৪ এক্সপেক্টেড গোলস কন্সিডেড (xG conceded) টুর্নামেন্টের সব দলের মধ্যে ৩০তম অবস্থানে রয়েছে।

গোছানো ও সুসংগঠিত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্রাজিলকে এর আগে বেশ কয়েকবার ধুঁকতে দেখা গেছে; কিন্তু শেষ ১৬-র মঞ্চে নরওয়ের এই ভঙ্গুর ডিফেন্স কি ব্রাজিলকে সেই ধরনের শক্ত প্রতিরোধের মুখোমুখি করতে পারবে?

কোচের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবে?

স্কোয়াডের ভারসাম্য ও আধুনিক ফুটবলের গতিময় ট্যাকটিকসের এই লড়াইয়ে নরওয়ের স্টেল সলবাকেনের চেয়ে ব্রাজিলের মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি বেশ এগিয়ে থাকবেন।

রাউন্ড ১: সলবাকেনের রণকৌশলগত ভুল নরওয়ে কোচের অদ্ভুত ‘হাইব্রিড’ স্টাইল না পুরোপুরি ডিফেন্স, না হাই-প্রেস ফুটবল। এই স্টাইল রক্ষণভাগকে মারাত্মক অরক্ষিত করে দিচ্ছে। পাশাপাশি, আর্লিং হাল্যান্ডকে জায়গা দিতে গিয়ে ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথকে উইংয়ে ঠেলে দেওয়ায় নরওয়ের আক্রমণভাগ পুরোপুরি মন্থর হয়ে পড়েছে।

রাউন্ড ২: আনচেলত্তির পাল্টা আঘাত ঠিক এই দুর্বলতাগুলোতেই ছোবল মারবেন চতুর ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। প্রথমার্ধে ব্রাজিল কিছুটা ধুঁকলেও সেকেন্ড হাফে উইং ভিত্তিক গতি আর ক্রসের পসরা সাজিয়ে ম্যাচ বের করা তাঁর পুরোনো অভ্যাস। নরওয়ের এই ধীরগতির ও নড়বড়ে ডিফেন্স লাইনকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বা  মার্টিনালির গতি দিয়ে কীভাবে ভেঙে চুরমার করতে হয়, তা আনচেলত্তির নখদর্পণে।

ফাইনালঃ  মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ড অতিমানবীয় কিছু করতে না পারলে সলবাকেনের এই কৌশলে ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকানো অসম্ভব। গেম রিড করার ক্ষমতা ও বেঞ্চের শক্তির জোরে এই মগজ লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবেন কার্লো আনচেলত্তিই।

২। 🇮🇹 মেক্সিকো বনাম 🏴󠁧󠁢󠁥󠁮󠁧󠁿 ইংল্যান্ড ,  জুলাই ৬ ( ভোর ৬টা) 

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: মেক্সিকোর হোম-অ্যাডভান্টেজ আর অতিরিক্ত বিশ্রামের সুবিধা কি ইংল্যান্ড সামলাতে পারবে?

এটি চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। ডিআর কঙ্গোর  বিরুদ্ধে একটি নাটকীয় জয়ের পর, ইংল্যান্ডকে এখন দক্ষিণ অভিমুখে যাত্রা করতে হবে স্বাগতিক 'এল ত্রি'দের মুখোমুখি হতে, তাও আবার বিখ্যাত অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে (Estadio Azteca)। গ্যালারিভর্তি উন্মাতাল দর্শক আর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে খেলার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি, মেক্সিকো আরও একটি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে, তারা ইংল্যান্ডের চেয়ে একদিন বেশি বিশ্রাম পেয়েছে।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং মেক্সিকোর আক্রমণগুলো রুখে দিতে ডেক্লান রাইস এবং এলিয়ট অ্যান্ডারসনের মিডফিল্ড জুটির ওপর বিশাল দায়িত্ব থাকবে। হ্যারি কেন টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলছেন, কিন্তু তার পাশে জুড বেলিংহাম এবং উইংয়ে যারা স্টার্ট করবেন, তাদের কাছ থেকে কেনের আরও বেশি সমর্থন প্রয়োজন। অন্যদিকে মেক্সিকো আক্রমণভাগে রাউল জিমেনেজের পাশাপাশি হুলিয়ান কুইনোনেসের (Julián Quiñones) মতো এক নতুন তারকা খুঁজে পেয়েছে। দুই দলই ম্যাচে গতির ঝড় তুলতে চাইবে। তাই এই ম্যাচে প্রচুর গোল এবং টানটান নাটকীয়তা আশা করাই যায়।

🏴󠁧󠁢󠁥󠁮󠁧󠁿 ইংল্যান্ডেঃ 

আসল প্রশ্নটা হলো: যদি কখনো তাদের সত্যিই ডিফেন্ড করতে হয়, তখন কী হবে?

ইংল্যান্ডের আসল ও বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে তাদের ডিফেন্স। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের সবকটিতেই তারা প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে খেলেছে, ফাইনাল থার্ডে (প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের কাছাকাছি এলাকায়) বল পজেশন ছিল ৭১%, যা টুর্নামেন্টে টিকে থাকা দলগুলোর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখনই এই দেয়াল ভেঙে ইংল্যান্ডের ডিফেন্সিভ থার্ডে ঢুকে পড়েছে, তখনই তাদের রক্ষণভাগকে বড্ড নড়বড়ে লেগেছে। কঙ্গো ডিআর-এর বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা তো ছিল রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো; কারণ কঙ্গো বলের দখল নেওয়ার জন্য লড়াই করেছিল এবং বেশ কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল। ঘানা এবং ক্রোয়েশিয়া যদিও খুব কম আক্রমণ করেছে, কিন্তু যখনই করেছে, তখনই তাদের বিপজ্জনক দেখিয়েছে।

ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের সমস্যাগুলো একদম স্পষ্ট। 'লো-ব্লক' বা রক্ষণাত্মক হয়ে বসে থাকা দলের বিপক্ষে তারা একেবারেই সুবিধা করতে পারে না। উইঙ্গাররা প্রতিপক্ষের মনে কোনো ভয় ধরাতে পারছে না, আর মাঝমাঠেও সৃষ্টিশীলতার চরম অভাব। শেষ পর্যন্ত পুরো দলকে তাকিয়ে থাকতে হয় হ্যারি কেইন কিংবা জুড বেলিংহ্যামের ব্যক্তিগত জাদুকরী কোনো মুহূর্তের দিকে।

ফলে সামনের দিকে যত ম্যাচ এগোবে, ইংল্যান্ড এক অদ্ভুত  ধাঁধার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যার শুরুটা হচ্ছে আজ আজতেকা স্টেডিয়ামেই: বড় দলগুলো তাদের আক্রমণভাগকে খেলার জন্য মাঠে হয়তো কিছুটা বেশি ফাঁকা জায়গা দেবে, কিন্তু একই সাথে তারা ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের বাধ্য করবে আসল ডিফেন্ডিংটা করতে।

🇮🇹 মেক্সিকোঃ

আসল প্রশ্নটা হলো: আজতেকা স্টেডিয়ামের ঘরের মাঠের সুবিধা (home-field advantage) আসলে কতটা মূল্যবান?

২০২৬ বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সব ম্যাচ জিতেছে এবং একটি গোলও হজম করেনি—এমন দলগুলোর তালিকা করলে নাম আসবে মাত্র একটি দলের:

মেক্সিকো... আর কেউ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র দলের  মতো চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স কিংবা কানাডার মতো ইতিহাস গড়ার মতো মুহূর্ত হয়তো তাদের নেই, তবে 'এল ত্রি' (মেক্সিকো দল) মাঠের ভেতর দারুণ পেশাদারত্ব দেখিয়ে চলেছে; তারা অনবরত ম্যাচ জিতছে এবং প্রতিপক্ষকে গোল দেওয়া থেকে আটকে রাখছে। তারা একেক ম্যাচে একেক কৌশলে জয় তুলে নিয়েছে: কখনো বলের দখল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আধিপত্য বিস্তার করেছে, আবার কখনো বা গত মঙ্গলবারে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের মতো রক্ষণাত্মক হয়ে বসে থেকে ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ বা পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ বের করেছে

টি মন্তব্য

জনগণের মতামত0

মন্তব্য করতে বা মতামত দেখতে আপনাকে অবশ্যই একাউন্টে লগইন করতে হবে।